শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন

এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সচল হয়নি চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি ১৬ বছর ধরে অচল অবস্থায় পরে আছে। ভোগান্তি পোহাচ্ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। তবে অচল মেশিটি সচল করতে নেয়া হয়েছিলো বরাদ্দ, তাতেও হয়নি কাজ। বরং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেরামত খরচ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা করেছিলেন আত্মসাৎ।

এদিকে দায়িত্বরতরা বলছেন এক্স রে মেশিনটি নষ্ট হয়েছে অনেকদিন হয়। তাঁরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলেও মেলেনি সমাধান। প্রতি নিয়তই চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সুবিধাভোগীরা। বর্তমানে এক্স-রে কক্ষটি হাসপাতালের স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, ২০০৫ সালে ৩০০ এমএ এক্স-রে মেশিনটি সংযুক্ত করা হয়েছিলো। এর কিছুদিন পরেই অচল হয়ে যায় এই মেশিনটি বলে জানা যায়। এদিকে এক্স-রে মেশিন চালু করতে কিছুদিনের মধ্যে একজন টেকনিশিয়ানও যোগদান করেন কর্তৃপক্ষ এরপরও চালু করা হয়নি মেশিনটি। তবে চালু না করলেও দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষ অকেজো দেখিয়ে মেরামতের জন্য প্রথমে দফায় ২৮ হাজার পরে ২ লাখ ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ আসলে তা কাগজ কলমে মেরামত দেখিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিলমারী উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সুন্দরগঞ্জের মন্ডলের হাট, কারেন্টবাজার, কাশিমবাজার, উলিপুরের সাদুল্লাহ, বাবুরহাট, বজরাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের রোগীর আগমন ঘটে। এতে করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির রোগী বাড়লেও একমাত্র এক্স-রে মেশিনের অভাবে রোগীদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে চড়ামূল্যে এক্স-রে করতে হচ্ছে। বছর পর বছর ধরে রোগীদের ভোগান্তি অভাবনীয় পর্যায়ে পৌঁছুলেও দেখার কেউ নেই। এখানে নিয়োজিত এক্স-রে ম্যান সুলতান দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করে অবশেষে কাজের সন্ধানে বদলি হয়ে গেছেন অন্যত্র। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বলেন, কোন পরীক্ষা বা এক্স-রে দরকার হলে হাসপাতালের ডাক্তার এবং স্টাফরা তাদের পছেন্দের ক্লিনিক দেখিয়ে সেখানে থেকে পরীক্ষা করার জন্য বলে দেন। আর অন্যদিকে হাসপাতালের মেশিন নষ্ট করে ফেলে রেখেছেন। তবে হাসপাতালটিতে এক্স-রে মেশিন আছে সেটা জানেনা অনেক রোগীই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, এক্স-রে মেশিনের ব্যাপারে বেশ কয়েক বার ডিজি মহোদ্বয়ের কাছে বলা হয়েছিলো কিন্তু কেন যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা আমার জানা নেই। তিনি বলেন এক্স-রে মেশিন দীর্ঘ দিন থেকে নষ্ট হওয়ায় ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com